অন্নদাশঙ্কর রায় (১৫ মার্চ ১৯০৪ – ২৮ অক্টোবর ২০০২) ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, লেখক ও ছড়াকার। তিনি উড়িষ্যার ঢেঙ্কানলে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা নিমাইচরণ রায় ঢেঙ্কানল রাজস্টেটে কর্মরত ছিলেন এবং মাতা হেমনলিনী কটকের প্রখ্যাত পালিত বংশের কন্যা। অন্নদাশঙ্করের শিক্ষাজীবন পাটনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয় এবং তিনি ইংরেজি সাহিত্যে প্রথম স্থান অধিকার করেন। পরবর্তীতে আই.সি.এস পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করে ইংল্যান্ডে সরকারি খরচে দুই বছর শিক্ষালাভ করেন। ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি মার্কিন কন্যা অ্যালিস ভার্জিনিয়া অনফোর্ডকে বিবাহ করেন, যিনি লীলা রায় নামে পরিচিত এবং তার অনেক বাংলা লেখা ইংরেজিতে অনুবাদ করেন। সরকারি চাকরিতে তিনি কুষ্টিয়া, নদীয়া, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলার হাকিম ও জজ পদে নিযুক্ত ছিলেন এবং পরবর্তীতে পশ্চিমবঙ্গের বিচার বিভাগের সেক্রেটারি হন। ১৯৫১ খ্রিষ্টাব্দে তিনি অবসর নেন। ১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় বাংলা আকাদেমির প্রথম সভাপতি হন।
অন্নদাশঙ্করের সাহিত্যকর্মে উপন্যাস, ছোটগল্প, প্রবন্ধ ও আত্মজীবনী অন্তর্ভুক্ত। তার উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলোর মধ্যে রয়েছে সত্যাসত্য, যার যেথা দেশ, অজ্ঞাতবাস, কঙ্কাবতী, দুঃখমোচন, মর্ত্যের স্বর্গ, অপসারণ, আগুন নিয়ে খেলা, অসমাপিকা, পুতুল নিয়ে খেলা, না। প্রবন্ধগুলোর মধ্যে রয়েছে তারুন্য, আমরা, জীবনশিল্পী, ইশারা, জীয়নকাঠি, দেশকালপাত্র, প্রত্যয়, নতুন করে বাঁচা, আধুনিকতা, পারী, শিক্ষার সংকট, চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, সাতকাহন, আত্মজীবনী, বিনুর বই, পথে প্রবাসে, জাপানে। ছোটগল্প ও গল্পের মধ্যে রয়েছে প্রকৃতির পরিহাস, দু কান কাটা, হাসন শখী, মন পাহন, যৌবন জ্বালা, কামিনি কাঞ্চন, রুপের দায়।
অন্নদাশঙ্কর রায় বহু পুরস্কারে ভূষিত হন, যেমন সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৬২), আনন্দ পুরস্কার (১৯৮৩ ও ১৯৯৪), বিদ্যাসাগর পুরস্কার, শিরোমণি পুরস্কার (১৯৯৫), রবীন্দ্র পুরস্কার, নজরুল পুরস্কার, বাংলাদেশের জেবুন্নিসা পুরস্কার। এছাড়াও তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জগত্তারিণী পদক, দেশিকোত্তম সম্মান এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টর অব লিটারেচার (ডিলিট) উপাধি পান। তিনি ২৮ অক্টোবর ২০০২ মৃত্যুবরণ করেন।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
শামসুর রহমান
আবুল ফজল
রমেশ দাশগুপ্ত
অন্নদাশঙ্কর রায়
Read more